হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়তে ধর্মভিত্তিক চারটি দলকে নির্বাচনের পরও চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে দলগুলো জানিয়েছে, তারা একইসঙ্গে জোট ও হেফাজত—দুই জায়গাতেই থাকতে চায়।
দলগুলোর নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, বিএনপির সঙ্গে থাকা কওমিভিত্তিক দলগুলোর নেতারা যেমন হেফাজতে রয়েছেন, তেমনি তারাও কেন জামায়াতের জোটে থেকে হেফাজতে থাকতে পারবেন না।
জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী-এর মতবাদকে নির্বাচনের আগে ‘ভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়েছিলেন হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান। এমনকি জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়া ‘হারাম’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছিল।
তবে হেফাজতঘনিষ্ঠ চারটি দল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
খেলাফত মজলিস
খেলাফত আন্দোলন
নেজামে ইসলাম পার্টি. এখনও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিবও। এছাড়া এই দলগুলোর বহু শীর্ষ নেতা হেফাজতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।
নির্বাচনের পরও জামায়াতবিরোধী অবস্থান ধরে রেখে হেফাজত গত ২৮ এপ্রিল চার দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে জামায়াত জোট না ছাড়লে সংশ্লিষ্ট নেতাদের হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন হেফাজত ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা।
রোববার চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজত আমিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মামুনুল হক বলেন, “১১ দলীয় ঐক্য আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ঐক্য। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আকিদা ও আদর্শিক পার্থক্য আগের মতোই রয়েছে।”
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং এর নেতারা রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন,
“কোনো দলই জোট ছাড়ছে না। বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কারের প্রশ্নে জোট আরও দৃঢ় হচ্ছে।”
0 মন্তব্য