ইরান হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এখন হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, অর্থ পরিশোধ না করলে এসব ক্যাবলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর ফি আরোপ করব।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজন-এর মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানি কোম্পানিগুলোর হাতে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রতলের সাবমেরিন ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্লাউড সেবা, অনলাইন গেমিং ও স্ট্রিমিংসহ বিশ্বের অধিকাংশ তথ্য আদান-প্রদান এসব ক্যাবলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টার-এর গবেষক মোস্তফা আহমেদ বলেন, আইআরজিসির কাছে ডুবুরি, ছোট সাবমেরিন ও পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন রয়েছে, যা সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু অঞ্চলে ভয়াবহ ডিজিটাল বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারতের আউটসোর্সিং শিল্পেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার আর্থিক লেনদেন এবং পূর্ব আফ্রিকার ইন্টারনেট সংযোগেও প্রভাব পড়তে পারে।
টেলিজিওগ্রাফি এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ফ্যালকন’ ও ‘গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবল হরমুজ প্রণালি হয়ে ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে।
যদিও ইরান সরাসরি ক্যাবল ধ্বংসের হুমকি দেয়নি, তবে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র তার জলসীমা অতিক্রমকারী ক্যাবলের বিষয়ে কিছু শর্ত আরোপ করতে পারে। ইরানও সেই আইনের ব্যাখ্যা ব্যবহার করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক শক্তির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তিতে রূপ দিতে চাইছে তেহরান।
0 মন্তব্য