একের পর এক ইনজুরি, মাঠের বাইরের বিতর্ক আর সাম্প্রতিক রেফারির ভুল সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসে নেইমার জুনিয়র-কে ঘিরে নাটকীয়তার শেষ ছিল না।
তবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আজই। বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঘোষণা করবেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল, আর সেখানেই নির্ধারিত হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভাগ্য।
সান্তোসের তারকা নেইমার অবশ্য বিষয়টিকে দেখছেন বেশ শান্ত ও পরিণতভাবে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফেরার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কোচের হাতেই।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন—
“আমি দলে থাকার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিই নেবেন। আমি সুযোগ পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে যদি নির্বাচিত নাও হই, তাহলেও আমি একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে ব্রাজিলের জন্য গলা ফাটাব।”
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আনচেলত্তি এখন ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের স্কোয়াড বাছাই করছেন। ২০২৩ সালের ভয়াবহ হাঁটুর চোটের পর দীর্ঘ সময় ফিটনেস সংকটে থাকলেও, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসি-তে ফেরার পর ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফিরেছেন নেইমার।
তবে কোচ আনচেলত্তি আগেই পরিষ্কার করেছেন, নেইমারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আবেগ বা অতীত অর্জনের ভিত্তিতে নয়; বরং বর্তমান ফর্ম ও শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে জায়গা দিতে গিয়ে তরুণ খেলোয়াড় জোয়াও পেদ্রো-র মতো কাউকে বাদ পড়তে হতে পারে। যদিও দলে ফিরলেও শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা নিশ্চিত নয়। বরং অভিজ্ঞতা ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্যের কারণে তাঁকে “ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট” হিসেবেই ভাবা হচ্ছে।
একদিকে সমর্থক ও সাবেক সতীর্থদের বড় অংশ চাইছেন নেইমারকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখতে, অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন এখন সময় তরুণদের হাতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার।
তাই এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ এক প্রশ্নেই— ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার কি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আবারও ট্রফি জয়ের সুযোগ পাবেন
0 মন্তব্য