দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা।
শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান এবং একই সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যেখানে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একই স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় টিকাদান গড়ভাবে বেশি হলেও কিছু এলাকায় কম কভারেজ থাকায় “ঝুঁকিপূর্ণ পকেট” তৈরি হয়, যেখানে প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জাতীয় হটলাইন ও রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ডের প্রস্তাব
তাসনিম জারা হামের কেস শনাক্তে জাতীয় পর্যায়ের একটি হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, এতে দ্রুত কেস শনাক্তকরণ, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, রিয়েল-টাইম ডেটা ম্যাপিং এবং চিকিৎসা সমন্বয় সহজ হবে/
তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য দেশের জরুরি হেল্পলাইন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, সীমিত রিসোর্সেও এ ধরনের মডেল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
রিং ভ্যাকসিনেশন ও আলাদা চিকিৎসাকেন্দ্রের পরামর্শ
তিনি আক্রান্ত এলাকা কেন্দ্র করে রিং ভ্যাকসিনেশন চালুর কথা বলেন, যেখানে সংক্রমিত ব্যক্তির আশপাশের পরিবার, প্রতিবেশী ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে।
এছাড়া, প্রতিটি এলাকায় সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাকেন্দ্র নির্ধারণ, হাসপাতালগুলোর জন্য বেড অ্যাভেইলেবিলিটি ড্যাশবোর্ড এবং শিশুদের আইসিইউ ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেন তিনি।
চিকিৎসা ব্যয় ও নীতিগত উদ্যোগের আহ্বান
তাসনিম জারা বলেন, হামের চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই সরকারিভাবে চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সবশেষে তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং একটি কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
0 মন্তব্য