ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বুলডোজার দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (৯ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মুসলমানদের ওপর পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মুসলিমদের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, বুলডোজার দিয়ে বেছে বেছে মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও উলুবেড়িয়ায় মসজিদে হামলা এবং সম্পদ লুটপাটের ঘটনাকে তারা “উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রশিবির নেতারা আরও বলেন, ভারতের ইতিহাসে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা দীর্ঘদিনের। তারা ১৯৮৪ সালের শিখ বিদ্রোহ, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা এবং মুজাফফরনগর, পাটনা ও দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার উদাহরণ টেনে মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
একইসঙ্গে নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), এনআরসি এবং বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধন বিলের মাধ্যমে মুসলমানদের অধিকার সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের ইতিহাস, স্থাপত্য ও আধুনিক বিজ্ঞানের বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ বর্তমানে সেই জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
পরিশেষে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রশিবির নেতারা। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভারত সরকারের প্রতিও দাবি জানান তারা।
0 মন্তব্য