স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় নতুন বিধি যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।
প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা কোনো নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। মিথ্যা তথ্য দিলে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির পদধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে তারা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রার্থীদের জন্য অঙ্গীকারনামার বিধান রাখা হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে নয়; দেশে বিদ্যমান আইন ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খসড়ায় আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হওয়ায় আচরণ বিধিমালার বিভিন্ন ধারা থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কাগজের পোস্টার ও রেক্সিনের প্রচারসামগ্রী নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার বন্ধ করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রচারণার সুযোগ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান শিথিল করা হলে নির্বাচনে পরোক্ষ দলীয় প্রভাব মোকাবিলা করা ইসির জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে খসড়া বিধিমালাগুলো নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে। কমিশনারদের মতামতের ভিত্তিতে এগুলোতে আরও সংশোধন আনা হতে পারে।
0 মন্তব্য