সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ছয়টি , এসএসসি (ভোকেশনাল) একটি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হারে উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে দাদপুর সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দাখিল পরীক্ষায় যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলো হলো, ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, হাসিল দাখিল মাদ্রাসা, বিএম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা, মিরের দেউলমুড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এবং বাগুদেবকোল শ্রী রামের পাড়া দাখিল মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশের হার শূন্য শতাংশ।
উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় মোট ৬৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০০ জন। পাশের হার ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন।
দাখিল শাখায় পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে সরাইলশ্রীকোলা দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন পাস করেছে। পাশের হার ৪০ শতাংশ। এরপর রয়েছে সলঙ্গা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন পাস করেছে। পাশের হার ৩৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
অন্যদিকে সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় রায়গঞ্জ উপজেলার ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৫৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৪১৮ জন। পাশের হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৯ জন।
এসএসসি বা উচ্চ বিদ্যালয় শাখায় পাশের হারে সবার ওপরে রয়েছে দাদপুর সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ জন পাস করেছে। পাশের হার ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ শাখায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৫ জন পাস করেছে। পাশের হার ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সলঙ্গা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০২ জন পাস করেছে। পাশের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট ৫০৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭৭ জন পাস করেছে। পাশের হার ৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন।
ভোকেশনাল শাখায় পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে দেউলমুড়া এস কে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে। পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রায়গঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। পাশের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখায় আই আর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার শূন্য শতাংশ।
অন্যদিকে দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় কুটারগাতী দাখিল মাদ্রাসা (ভোক.) থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। এ প্রতিষ্ঠানটির পাশের হারও শূন্য শতাংশ।
সব মিলিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট আটটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দাখিল শাখার ছয়টি মাদ্রাসা, এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখার একটি প্রতিষ্ঠান এবং দাখিল (ভোকেশনাল) শাখার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার সামগ্রিক পাশের হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও দাখিল পরীক্ষায় তা নেমে এসেছে ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশে। ভোকেশনাল শাখাতেও পাশের হার ৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ। বিশেষ করে দাখিলের ছয়টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে পাশের হার শূন্য থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
0 মন্তব্য