ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে সরাসরি লেনে খামখেয়ালিভাবে প্রায় এক ঘণ্টা একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে পেছন থেকে একে একে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি প্রাইভেট কার, একটি কাভার্ড ভ্যান, দুইটি মোটরসাইকেল ও আরেকটি বাস। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন ও হাসপাতালে আরো ১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) ওই এলাকার ইসলামপুর মহিলা মাদরাসার সামনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নালী ইউনিয়নের রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী আশুতোষ সাহার ছেলে সুজয় সাহা ও তার ফুপাতো ভাই সাভারের আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে আবাস সাহা। আবাস সাহা মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও সুজয় সাহা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের ইসলামপুরে সরাসরি লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। বাসটি দেখে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ড ভ্যান গতি কমিয়ে থেমে যায়। এসময় কাভার্ড ভ্যানের পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলের পর পেছনে থেকে দ্রুত গতিতে আসা স্বাধীনতা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী সুজয় সাহা ও আবাস সাহা নিহত হন। অন্য মোটরসাইকেল আরোহী সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।
সাধারণত দেখা যায়, বিকল গাড়ির পেছনে কেবল একটি গাছের ডাল ঝুলিয়ে দিয়েই ‘বিকল হওয়ার’ বার্তা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে দ্রুত গতির সড়কে বুঝা যায় না যে, সামনের গাড়িটি বিকল। পুলিশ ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান সড়কগুলোর সরাসরি লেনে থেমে থাকা যানবাহনের পেছন থেকে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ জানান, রাস্তার পাশে থেমে ও সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির পেছনে চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে।
তবে শনিবার যে বাসটির কারণে তিনটি জীবন প্রদীপ নিভে গেল, সেই বাসটি বিকল ছিল না। ফলে পুলিশ বাসটি জব্দ করতে পারেনি। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যায়। সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসটি উদ্ধার ও চালককে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।
0 মন্তব্য