ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান ও পরবর্তী কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু –এর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ ও উত্তপ্ত ফোনালাপে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
এর আগে গত রবিবারও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়, যেখানে ট্রাম্প ইরানের ওপর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার ইঙ্গিত দেন। ওই সম্ভাব্য অভিযানকে ঘিরে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে “অপারেশন স্লেজহ্যামার” নামে পরিকল্পনার আলোচনা চলছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক অনুরোধে ট্রাম্প ওই হামলা পরিকল্পনা স্থগিত করেন। এরপর থেকেই আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী বিশেষ করে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা জোরদার হয়।
বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তারা ইরান ইস্যুতে “চূড়ান্ত পর্যায়ে” আছেন এবং একটি চুক্তির আশা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, তিনি মনে করেন এ ধরনের বিলম্ব ইরানকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে। মঙ্গলবারের ফোনালাপে তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি জানান, হামলা স্থগিত করা একটি “গুরুতর ভুল”।
ইসরায়েলি প্রশাসনের ভেতরে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে চাপ বাড়লেও ওয়াশিংটন আপাতত কূটনৈতিক পথেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি খোলা থাকবে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ চললেও মূল ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনীতি ও সামরিক পদক্ষেপের দোলাচলে ইরান ইস্যু আবারও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
0 মন্তব্য