তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো তামাদি হতে দেবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সে সময় সরকারসমর্থিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে মামলায় জড়ানো হয়।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এমন কোনো গণতন্ত্রমনা অংশ নেই, যারা নির্যাতনের শিকার হয়নি।”
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
২০০৯ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা, শাপলা চত্বর অভিযান এবং বিভিন্ন দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ধীরে ধীরে জাতীয় ঐক্যে পরিণত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে “ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন” ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়া–র নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছিল তার গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।
একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে সরকার জাতির সামনে দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির ঐক্য ছাড়া কোনো বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। “যখন ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম কিংবা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন আসে, তখন গোটা জাতি এক হয়ে যায়। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি,” যোগ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
0 Comments