চুল শুকানো কিংবা একটু জট ছাড়াতেই যেখানে অনেকে অধৈর্য হয়ে পড়েন, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুল ধোয়া ও সামলানোকেই যেন প্রতিদিনের অভ্যাসে বানিয়ে ফেলেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা রেনু ধারিয়াল। প্রায় ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি (২৭১.৫ সেন্টিমিটার) দীর্ঘ চুলের বদৌলতে বর্তমানে জীবিত নারীদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা চুলের নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানি শহরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একটি বিশেষজ্ঞ দল আনুষ্ঠানিকভাবে রেনুর চুল মেপে দেখেন। পরিমাপের পর নিশ্চিত করা হয়, রেনুর চুল ইউক্রেনের পূর্ববর্তী রেকর্ডধারীর (যার চুল ছিল প্রায় ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি) চেয়েও দীর্ঘ।
২০১৫ সালে হুট করেই চুল না কাটার সিদ্ধান্ত নেন রেনু। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে লম্বা চুলকে নারী সৌন্দর্য ও পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এই ভাবনা থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি।
টানা প্রায় ১০ বছর ধরে চুলে কাঁচি না দেওয়ায় সেই স্বাভাবিক বৃদ্ধিই একসময় বিশ্ব রেকর্ডে রূপ নেয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, এত লম্বা চুল ধরে রাখতে হয়তো দামি কেমিক্যালজাত প্রসাধন বা ব্র্যান্ডের হেয়ার ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হয়। তবে রেনু জানান, তিনি কোনো কৃত্রিম প্রসাধন ব্যবহার করেন না। সম্পূর্ণ নিজস্ব উপায়ে তৈরি ঘরোয়া তেল ও শ্যাম্পু দিয়েই নিয়মিত নিজের চুলের যত্ন নেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় রেনু তার ইউটিউব চ্যানেলে রান্নার পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে চুলের এই ঘরোয়া যত্নের টিপসও ভাগ করে নেন।
প্রায় ৯ ফুটের কাছাকাছি পৌঁছানো এই বিপুল চুল প্রতিদিন সামলানো অবশ্য খুব সহজ কথা নয়। রেনু জানান, প্রতিদিন চুলের জট ছাড়ানো, তা ধোয়া ও শুকানোর জন্য সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন—তা হলো অসীম ধৈর্য। হাঁটাচলা কিংবা দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে তিনি সবসময় চুল শক্ত করে বেণী বেঁধে রাখেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) পাতায় রেনুর ছবি ও গল্প প্রকাশ করার পর ইন্টারনেটে মিশ্র কিন্তু দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নেটিজেনদের অনেকেই তার এই অধ্যাবসায় ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন। তবে রসিকতারও কমতি ছিল না। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘আমি এখানে চুল পড়া বন্ধ করতে হাঁপিয়ে উঠছি, আর ওনার কাছে তো আস্ত একটা চুলের দোকান জমে উঠেছে।’
এই বিশ্ব রেকর্ডকে শুধুমাত্র একটি শারীরিক অর্জন হিসেবে দেখতে চান না রেনু ধারিয়াল। তার মতে, ছোট ছোট প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে যে যেকোনো মানুষ বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে—এই বার্তাটিই তিনি বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
0 মন্তব্য