গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় এক শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন হামাসের বর্তমান সামরিক প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ। তবে তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ মে) রিমাল এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই একটি বহুতল আবাসিক ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরে কাছাকাছি একটি সড়কে থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, লক্ষ্যবস্তু হওয়া ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। আকস্মিক হামলায় ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হামাস কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে টার্গেট করা।
২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক হামাস কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর আল-হাদ্দাদ হামাসের সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্ব নেন। ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি এবং ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাদের হত্যা ও অপহরণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। যদিও হামাস এখন পর্যন্ত তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গত অক্টোবর মাসে মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে গাজায় বড় ধরনের সংঘাত সাময়িকভাবে কমে এলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বন্দি বিনিময় এবং গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ‘গাজা-পরবর্তী পরিকল্পনা’ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা চলাকালেই নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে ২০ লক্ষাধিক মানুষ মানবিক সংকটের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে বসবাস করছেন।
0 মন্তব্য