পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মাগুরমারী চৌরাস্তা এলাকায় মদিনাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মফিজার রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আব্দুল জলিল অফিসিয়াল পেইজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মাদ্রাসার মুহতামিমকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্যসহ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি ভিত্তিহীন দাবি করে এর প্রতিবাদে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী মাগুরমারী চৌরাস্তায় মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
মানববন্ধন চলাকালে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজের মালিক হিসেবে পরিচিত আব্দুল জলিল ঘটনাস্থলে গিয়ে মানববন্ধনে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও গরু চুরির অভিযোগের কথা তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় অতীতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য ও মামলার নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পূর্বে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে তার পদ ছিল এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এ বিষয়েও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে নিয়ে মানহানিকর বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাই, মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার ঘটনা তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
0 মন্তব্য