রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া সোমবার নিজেদের অভিন্ন সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু করেছে। দুই দেশই বলছে, এই সেতু চালুর ফলে তাদের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল)। দুই লেনের এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল করতে পারবে। রুশ সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সেতুটি উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর রাসন ও রাশিয়ার খাসান শহরকে যুক্ত করেছে। দুই শহরেই একযোগে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অংশ নেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ও উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং।
মিশুস্তিন বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) বরাতে জানা গেছে, পাক থায়ে সং বলেছেন, সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় নতুন গতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক ও বিভিন্ন বিনিময় কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া গোলাবারুদ ও সেনাসদস্য সরবরাহ করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বিনিময়ে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়ায় রুশ পর্যটকদের প্রবেশও শুরু হয়। কেসিএনএ জানিয়েছে, নতুন সেতুটি চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন আরও বাড়বে।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এরই মধ্যে একটি রেলসেতু ও বিমান যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ তুমেন নদীর ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য একটি সড়ক সেতু নির্মাণে সম্মত হয়। উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এই নদীটি চীনের সীমান্ত দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর।
0 মন্তব্য