কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ব্যতিক্রমী সাদা বেগুন চাষ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শচীন চন্দ্র রায়। শখের বসে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালে বরিশাল থেকে মাত্র আটটি সাদা বেগুনের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। এর মধ্যে চারটি চারা টিকে থাকলেও সেগুলো থেকেই বীজ সংগ্রহ করে চলতি মৌসুমে নিজের প্রায় পাঁচ শতাংশ সুপারি বাগানে বস্তা পদ্ধতিতে প্রায় ৫০০টি গাছের চাষ করেছেন।
ডিম্বাকৃতির ও দুধ-সাদা রঙের এই বেগুন দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর প্রতি মানুষের কৌতূহলও অনেক। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই ব্যতিক্রমী বেগুন দেখতে তাঁর বাগানে ভিড় করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি সাদা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের এলাকাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে এই বেগুন।
বাগান দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “অনেক ধরনের বেগুন দেখেছি, কিন্তু এমন সাদা বেগুন আগে কখনো দেখিনি। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এটি নিয়ে মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।”
উদ্যোক্তা শচীন চন্দ্র রায় বলেন, “শখের বসে কয়েকটি চারা দিয়ে শুরু করেছিলাম। ভালো ফলন পাওয়ায় এবার কিছুটা বড় পরিসরে চাষ করেছি। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে সাদা বেগুনের চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শিশির কুমার রায় জানান, সাদা বেগুনের একাধিক জাত রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি সাদা বেগুনের একটি ডিম্বাকৃতি জাত। কৃষক বা উদ্যোক্তারা আগ্রহী হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ফুলবাড়ী অঞ্চলেও সাদা বেগুনের বাণিজ্যিক চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
0 মন্তব্য