সিলেটের আলেচিত শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরো পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলা থেকে জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালাম বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদরুল ইসলাম চৌধুরী। পিপি বদরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জাকির হোসেন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসামি ছিলেন তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও মো. আবুল কালাম। মামলার রায়ে আদালত জাকির হোসেনকে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাকে আরো পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘মামলায় জাকির হোসেনের দুই ভাইয়ের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আদালত তাদের দুজনকে খালাস দিয়েছেন।’ নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) ফাহিমার পরিবারের প্রতিবেশী মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
চলতি বছরের ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট আনতে পাঠানোর অজুহাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে গলা টিপে হত্যা করা হয় তাকে।
পরে ধরা পড়ার ভয়ে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে দুই দিন নিজঘরে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন।
এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ওই রাতেই বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
জবানবন্দিতে জাকির হোসেন জানান, সিগারেট আনার কথা বলে ফাহিমাকে দোকানে পাঠান তিনি। দোকান থেকে ফেরার পর ঘর ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা চালান। এ সময় ফাহিমা জ্ঞান হারালে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেন তিনি। গুম করতে না পেরে বাড়ির কাছে একটি পুকুরসংলগ্ন ডোবায় মরদেহ ফেলে রাখেন। ঘটনার ৩৩ দিন পর জাকির ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরবর্তীতে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই থেকে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। প্রায় এক মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
0 মন্তব্য