সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে শুক্রবার স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো ‘সামরিক জোট বা সাম্প্রদায়িক ব্লক’ গঠনের উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী।
চুক্তি ঘোষণার পরপরই সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক জনকূটনীতি উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, “এটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত নয়। বরং এর লক্ষ্য টেকসই সক্ষমতা গড়ে তোলা।”
সৌদি আরবের মক্কায় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
ক্রিমলি বলেন, তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন এই চুক্তি। এ চুক্তির আগে কয়েক বছর ধরে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা, সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতা উন্নত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্রিমলি বলেন, চুক্তির আওতায় তিন দেশ তাদের নিজ নিজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও সমন্বয় করবে, যাতে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য যেকোনো হুমকি যৌথভাবে মোকাবিলা করা যায়।
তিনি বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর কোনো বহিরাগত সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
সৌদি মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই চুক্তির কারণে উপসাগরীয়, আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই চুক্তি বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়। একই সঙ্গে এটি কোনো দেশকে হুমকি দেওয়া বা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও করা হয়নি।
0 মন্তব্য