পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন, গর্ভপাত, অর্থ আত্মসাৎ ও যৌতুকের দাবিতে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন লিলি আক্তার নামে এক নারী।
ভুক্তভোগী লিলি আক্তার পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডাংগাপাড়া নিজামাবাদ গ্রামের মোশারফ হুসেনের মেয়ে। তাঁর অভিযোগ, হাড়িভাষা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আছিমউদ্দিনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেন। পরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার শুরু করেন।
লিলি আক্তারের অভিযোগ, সংসার চলাকালে তিনি গর্ভবতী হলে স্বামীর চাপে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়। পরে মোস্তাফিজুর তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করলে তিনি দেনমোহর ও যৌতুকের দাবিতে আদালতে মামলা করেন।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, কৌশলে মোস্তাফিজুর তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তাফিজুর, তার বাবা ও মা মিলে তাকে মারধর করেন এবং শরীর ও গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন লিলি আক্তার।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানান। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য আজিমা খাতুন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহসানুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত লিলি আক্তারকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর এ ঘটনায় লিলি আক্তার বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
0 মন্তব্য