ডিম যেন খাবারের পাতের অন্যতম প্রধান উপাদান। ঘরে কোনো তরকারি নেই—ডিম ভাজি, হালকা ক্ষুধা লাগলে ডিম সেদ্ধ, সকালে ভাজি, দুপুরে ডিমের ঝোল কিংবা রাতে ডিমভুনা—দ্রুত ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ডিমের ওপর ভরসা করেন অনেকেই।
মাসের শেষের হিসাব মেলানো থেকে শুরু করে অল্প সময়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি—সব ক্ষেত্রেই ডিম বেশ জনপ্রিয়। দাম তুলনামূলক কম, রান্না সহজ এবং এতে রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
তবে প্রতিদিন ডিম খাওয়া নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে—এতে কি কোলেস্টেরল বাড়ে, নাকি শরীরের জন্য উপকার বেশি? পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি।
১. চোখের স্বাস্থ্যে উপকার
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত ডিম খাওয়ার মাধ্যমে চোখের সুরক্ষায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এসব পুষ্টি উপাদান বয়সজনিত চোখের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
২. মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য সহায়ক
ডিমে রয়েছে কোলিন, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি স্মৃতি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতেও প্রয়োজনীয়।
একই সঙ্গে কোলিন লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত ডিম রাখা উপকারী হতে পারে।
৩. কোলেস্টেরল নিয়ে ভুল ধারণা কমতে পারে
ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো—ডিম খেলেই কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডা. শেঠির মতে, পরিমিত ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম রাখলে প্রোটিনের কারণে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। ফলে দিনের মধ্যে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
প্রতিদিন কয়টি ডিম খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
আর যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। টোফুতেও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, শুধু ডিম খেলেই শরীরে বড় পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি।
0 মন্তব্য