প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে মৌসুম শুরু করেছে আর্সেনাল। সোমবার রাতে ভিলা পার্কে অ্যাস্টন ভিলাকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন ইংলিশ উইঙ্গার বুকায়ো সাকা।
দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি, হাল সিটি ও চেলসির সঙ্গে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষভাগে রয়েছে আর্সেনাল। অন্যদিকে মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি অ্যাস্টন ভিলা।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্সেনাল শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্টের পাশাপাশি কোনো গোলও হজম করেনি তারা। আর্সেনালের কোচ হিসেবে ২৫০তম লিগ ম্যাচে এমন জয় আর্তেতার জন্যও বিশেষ অর্জন।
মৌসুমের প্রথম ম্যাচে কোভেন্ট্রিকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচের একই একাদশ নিয়ে ভিলা পার্কে নামেন আর্তেতা। সেই ম্যাচে গোল করা সাকাই এবারও দলের জয়ের নায়ক হলেন।
ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আর্সেনালের জার্সিতে অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক এজরি কনসার। মজার বিষয়, তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষেই অভিষেক হয়েছে তার। গত ২১ আগস্ট ৫ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডে ভিলা ছেড়ে আর্সেনালে যোগ দেন কনসা।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ডেকলান রাইসকে চোটের কারণে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন আর্তেতা।
প্রথমার্ধে ভিলার চাপ
ম্যাচের শুরুতে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ছিল অ্যাস্টন ভিলা। উইঙ্গার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এতে শুরুতেই স্বাগতিকদের আক্রমণের বার্তা পাওয়া যায়।
আর্সেনাল ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাকার ক্রস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ভিলার ডিফেন্ডার পাও তোরেস দারুণভাবে ব্লক করে বিপদ ঠেকান।
প্রথমার্ধের শেষদিকে রিকার্দো কালাফিওরি বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে আর্সেনাল। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
বিরতিতে আর্সেনালের আক্রমণে আরও ধার বাড়াতে ক্রিস্টোস তজোলিসকে তুলে এজেকি একেকে মাঠে নামান আর্তেতা। এই পরিবর্তনের পর আর্সেনালের আক্রমণে গতি বাড়ে।
সাকার গোলেই পার্থক্য
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করে। রাইসের পাস থেকে কাই হাভার্টজকে গোল করা থেকে শেষ মুহূর্তে বাধা দেন ভিলার ভিক্টর লিন্ডেলফ।
এরপর সাকার ওপর ইয়ান মাতসেনের ফাউলের ঘটনায় আর্সেনালকে প্রথমে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফাউলটি বক্সের বাইরে হয়েছে। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ফ্রি-কিক থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তবে ৫৯তম মিনিটে আর নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি ভিলা। এজেকি একের পাসে বক্সে ঢুকে পড়েন কালাফিওরি। তার নিচু ক্রস কাছ থেকে পায়ে ছুঁয়ে জালে পাঠিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন সাকা।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ভিলা। হাভার্টজের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এরপর কনসা মাঠে নামলে সাবেক ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পান তিনি—কেউ দুয়োধ্বনি দেন, কেউ আবার করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
শেষ পর্যন্ত ভিলার আক্রমণ ঠেকিয়ে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
শিরোপার লড়াইয়ে বড় পরীক্ষা সামনে
এই জয়ের পর আর্সেনালের সামনে অপেক্ষা করছে মৌসুমের প্রথম বড় পরীক্ষা। রোববার ঘরের মাঠে লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী চেলসির মুখোমুখি হবে তারা। চেলসিও প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে।
এদিকে ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে আরও একজন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর্সেনাল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী তারা।
অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলার জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রথম ম্যাচে ব্রাইটনের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর এবার ঘরের মাঠেও হারল তারা।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিক্রি করেছে ভিলা। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম মেনে চলার অংশ হিসেবে দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ক্লাবটি। এজরি কনসা, মরগান রজার্স, অলি ওয়াটকিন্স, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লুকাস ডিগনে ও ইউরি তিয়েলেমান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা ক্লাব ছেড়েছেন।
গত মৌসুমে ৩০ বছরের ট্রফি-খরা কাটানো ভিলা এখন অনেকটাই ভিন্ন চেহারার। দলটিকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় ফেরানো এমেরির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে আর্তেতা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বিশাল জয়। এখানে এসে তিন পয়েন্ট পাওয়া কঠিন। আমার মনে হয়, আমরা জয়টা প্রাপ্য ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত ছিল। বদলি খেলোয়াড়রা এসে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে এবং ম্যাচ শেষ করে জয় নিশ্চিত করেছে। এখানে জয় পাওয়া কতটা কঠিন, আমি জানি। বড় দলগুলোও এখানে সমস্যায় পড়ে, কারণ তারা খুব ভালো দল।’
তবে হারের পরও ইতিবাচক দিক দেখছেন ভিলা কোচ উনাই এমেরি। তার মতে, দলটি খুব বেশি গোলের সুযোগ দেয়নি।
এমেরি বলেন, ‘একটি ম্যাচ হারাটা কষ্টদায়ক। তবে কষ্ট পাওয়ার পর আমাদের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিতে হবে। ৩৮ ম্যাচের মধ্যে আমরা মাত্র দুটি খেলেছি এবং এখনো কোনো পয়েন্ট পাইনি। আশা করি, আমরা আরও ভালো করতে পারব।’
0 মন্তব্য