ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই জাহিদুলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর পরিবার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে যান। সেখানে একটি ভাঙা ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কিশোরী নিজের শোবার ঘরে ফিরে বিষয়টি বড় বোনকে জানায়। ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই জাহিদুলকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জাহিদুল তাকে আক্রমণ করেন এবং মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। পরে স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে বিষয়টি জানানো হলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত জাহিদুলকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিচার শেষ করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বলেন, জাহিদুল কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির এবং অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
0 মন্তব্য