ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি। পাশাপাশি সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি।
গত ১৮ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধ এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছিল। দুই পক্ষ সম্মত হলে সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।
সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের তেল রপ্তানিতে ছাড় এবং জব্দ করা ইরানি তহবিল ছাড়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। পরে হামলার তীব্রতা কমলেও উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
ইরানের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ইরানের ওপর অব্যাহত নৌ অবরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ আরব সাগরে প্রবেশ করেছে। এটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিকতম নৌ তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। রোববার কোনো জাহাজ চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ আগের সপ্তাহের শুরুতে ৩১টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছিল।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম প্রধান উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা ইরানি তহবিল ছাড়সহ ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সুত্র: জর্ডান নিউজ
0 মন্তব্য