হবিগঞ্জ শহরের আনোয়ারপুর ও নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে রোববার সকালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত শুক্রবার রাতে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরই জেরে রোববার সকালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন লাঠি, লোহার রড, দা ও ইট-পাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আনোয়ারপুর এলাকার আকবর আলী (৪০), রহিম মিয়া (২৫) ও সুজন দাস (৩০) এবং নোয়াগাঁও এলাকার মিলন হোসেন (৩৫), জসিম মিয়া (৪৫) ও রোকসানা আক্তার (৫০) রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত কয়েকজনের হাড় ভাঙা ও গভীর ক্ষত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় সরাসরি এজাহার দায়ের করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পরিস্থিতি পুলিশ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, সংঘর্ষের পরও তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
0 মন্তব্য