রাজনীতির মূল স্রোতে প্রথাগতভাবে সরাসরি সরব না থাকলেও হঠাৎ করেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জ্যেষ্ঠ কন্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক ডা. শামারুহ মির্জা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসন ‘ঠাকুরগাঁও-১’-এর আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও এই ঘাঁটির দুর্গ অক্ষুণ্ণ রাখতে ধানের শীষ নিয়ে ভোটের মাঠে নামার দৌড়ে শামারুহ মির্জা বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিশাল জয় পেয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট।
গত নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকেই পুনরায় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটি। ফলে এই আসনে লড়াইয়ের যে তীব্র সমীকরণ, তা ধরে রাখতে বিএনপিকেও দিতে হবে হাই-ভোল্টেজ কোনো প্রার্থী।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি বরাবরই বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় প্রভাব এই আসনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
এখন তার অনুপস্থিতিতে সেই বিশাল ভোটব্যাংক ধরে রাখা এবং বিএনপির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা নতুন প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর ঠিক এই জায়গাতেই দলটির হাইকমান্ডের ভেতরে ও বাইরে ডা. শামারুহ মির্জার নাম নিয়েও চলছে আলোচনা। নতুনভাষা শেখার রিসোর্স ব্যবহার করা
স্থানীয় সূত্র বলছে, করোনাকালে এবং বিভিন্ন সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ, দুস্থ ও অসচ্ছল পরিবারের পাশে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. শামারুহ মির্জা। এছাড়া নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তার সরব উপস্থিতি স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের মধ্যে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, আধুনিক ও উচ্চশিক্ষিত নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ডা. শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে তা কেবল স্থানীয় বিএনপিতে নতুন গতিই আনবে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলের একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাবমূর্তিও তৈরি করবে।
এদিকে, এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও বইছে উত্তাপ। ডা. শামারুহ মির্জার পাশাপাশি দৌড়ে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি, পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থার কারণে তৃণমূলের একটি বড় অংশ তাকেও যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে চায়। এছাড়া জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে উপনির্বাচন নিয়ে দলের ভেতর গ্রুপিং বা বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন, দলীয় বিভেদ ভুলে তৃণমূলের সবাই তার পক্ষেই একযোগে কাজ করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন এই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
0 মন্তব্য