২১ বছর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। গত রাতে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
তার বিদায়ের পর থেকে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, মেসির বিদায়ের পর কেমন হবে আর্জেন্টিনা দলের চেহারা। তার একটা ছাপ অবশ্য বহু আগে থেকেই মিলেছে। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই। এই সময় থেকে মেসি চোটের কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন, তখন স্কালোনিকে খেলাতে হয়েছে মেসিবিহীন এক দলই।
সেই দলটা দারুণ সব সাফল্যও এনে দিয়েছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে ২০২৪ কোপা আমেরিকায়। মেসি পুরো টুর্নামেন্টে নিস্প্রভ ছিলেন চোটের কারণে। ১ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট ছিল তার নামের পাশে। ফাইনালে মেসি ৬০ মিনিটের মাথায় উঠেও গিয়েছিলেন চোট পেয়ে। যার ফলে বাকিটা সময় তাকে ছাড়াই খেলেছে আর্জেন্টিনা, লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জিতেওছিল দারুণভাবে।
তারও আগে ব্রাজিলের জালে ৪ গোল জড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। সে জয়টাও এসেছিল মেসিকে ছাড়াই। তাই মেসি নির্ভরতার কারণে আকাশি-সাদারা ভুগবে, এমনটা মোটেও বলা যাচ্ছে না। মেসির অবসরের অনেক আগে থেকেই স্কালোনি এই পরিবর্তনের জন্য দলকে প্রস্তুত করছিলেন।
তবে মেসির অবসরের সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেক বিষয় যুক্ত হয়েছে এখন। নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছিলেন। যদিও চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর নতুন উদ্যমে আবার খেলাটা উপভোগ করতে শুরু করতে পারেন তিনি।
এদিকে রদ্রিগো দে পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মতো পুরোনো খেলোয়াড়দের নিয়েও এখন নতুন করে ভাবতে হবে স্কালোনিকে। বিশ্বকাপে তাদেরও বেশ বিবর্ণ দেখা গেছে।
তবে স্কালোনির হাতে এখনো ভালো একটা দল আছে। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, এনজো ফের্নান্দেজ, আলেক্সিস সানচেজ, লাউতারো ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড়রা আছেন তার দলে।
সেই সঙ্গে নিকো পাস, হুলিয়ানো সিমিওনে, কোলো বারকো, লেও বালের্দি, মাক্সিমো পেরোনে, আগুস্তিন গিয়াই, সান্তিয়াগো বেল্ত্রান, তোমাস আরান্দা, হোয়াকিন ফ্রেইতাস, মাতিয়াস সোউলে, ভালেন্তিন কারবোনি, আলেহান্দ্রো গার্নাচো এবং ফ্রাংকো মাস্তান্তুয়োনোর মতো তরুণ খেলোয়াড়দেরও দলে নিয়ে এসেছেন তিনি। এই তরুণরাই হবে নতুন আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ।
0 মন্তব্য