কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তাঁর সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। কেউ তাঁর হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের কথা বলছেন, কেউ আবার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে স্মরণ করছেন।
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আবেগঘন এক বার্তায় লেখেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক এলেই কারিনা নির্দ্বিধায় পাশে দাঁড়াতেন।
তিনি জানান, কারিনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, তাঁর উপস্থিতির রসবোধ এবং সহজ আচরণ তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। ফারুকী আরও স্মরণ করেন, প্রথমবার তাঁদের বাসায় এসে কারিনা নিজের ভক্ত হওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন।
তিনি আরও লেখেন, কারিনার মৃত্যুর পর এখন যেন তিনি বুঝতে পারছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কতটা ভালোবাসা ছিল। পোস্টের শেষাংশে তিনি কারিনার জন্য শান্তি ও পরকালের মঙ্গল কামনা করেন এবং বিদায় জানান আবেগঘন ভাষায়।
শুধু ফারুকী নন, বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও কারিনা সক্রিয় ছিলেন এবং তাঁর হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সবার মন জয় করেছিল। অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁর লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করছেন অনেকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় গতকাল শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল।
সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দিলে অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
মৃত্যুকালে কারিনা কায়সারের বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
0 মন্তব্য