সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নিমগাছি বিষমডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ’-এ শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টায় একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল থেকে কলেজ ভূমি উদ্ধার করায় বর্তমান অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) আঃ আলিম খানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
সম্প্রতি কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে তিন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।
জমি উদ্ধার ও আধিপত্য হারানোর ক্ষোভ
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল থেকে প্রায় ১১ বিঘা জমি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে এই জমি এককভাবে ভোগ করে আসছিল। জমিটি উদ্ধারের পর থেকেই অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) আঃ আলিম খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবক জানান, "কলেজটি যখন কারো ব্যক্তিগত খামখেয়ালিতে চলছিল, তখন কেউ কিছু বলেনি। এখন অধ্যক্ষ মহোদয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে জমি উদ্ধার করেছেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাই একটি মহল তার ওপর ক্ষিপ্ত।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের নামে অপরাধ ও বিচার:

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু কিশোর ও যুবক রাতের আঁধারে কলেজে অনুপ্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকায় তাদের জরিমানা করা হয় এবং কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই একটি মহল পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আঃ আলিম খান বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি মাত্র। ১১ বিঘা জমি উদ্ধার করা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরানোই কি আমার অপরাধ? একটি কুচক্রী মহল তাদের হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে মিথ্যে অভিযোগ ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। আমি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং এসব ষড়যন্ত্রে আমি বিচলিত নই।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। যারা অপরাধের দায়ে বরখাস্ত হয়েছে এবং যারা জমি হাতছাড়া হওয়ায় প্রতিশোধ নিতে চাইছে, তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বরং কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কাম্য।
প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।
0 মন্তব্য