ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ আরোপের দাবি এবং ইয়েমেনের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে সৌদি আরব।
সোমবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের বৈধ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটির জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি বাজেটে সহায়তা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে রিয়াদ।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে হোদাইদা, সালিফ ও রাস ইসা বন্দরসহ উত্তর ইয়েমেনের বিভিন্ন বন্দরে খাদ্য, জ্বালানি, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্যবোঝাই ৩০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে ইয়েমেনের জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর এডেন বিমানবন্দরে হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়া এবং ২০২২ সালের ২১ অক্টোবর দক্ষিণ ইয়েমেনের তেল রপ্তানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় ইয়েমেন সরকারের তেল রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যা সরকারের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে জেদ্দা থেকে হাজিদের ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের চারটি উড়োজাহাজ হুথিরা জব্দ করে রাখে বলেও অভিযোগ করেছে রিয়াদ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হুথিরা ইয়েমেনকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এতে ইয়েমেনিদের দুর্ভোগ, অর্থনৈতিক সংকট এবং যাতায়াতের সমস্যা আরও বেড়েছে, বিশেষ করে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।
সৌদি আরবের দাবি, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু করার সব উদ্যোগই হুথিরা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রেখে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের দায় এড়াতে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
রিয়াদ জানায়, ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের দুর্ভোগ দূর করাই তাদের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের শান্তি উদ্যোগ ও প্রস্তাবিত রোডম্যাপকে সৌদি আরব সমর্থন করলেও হুথিরা তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠিত সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে হুথিদের যেকোনো হুমকির দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সামুদ্রিক দস্যুতার শামিল।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার জন্য সৌদি আরব দায়ী—হুথিদের এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই উত্তর ইয়েমেনের বন্দরে ৩০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রবেশ করেছে এবং সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ও ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের বহর ধ্বংসের জন্য দায়ী হুথিরাই।
0 মন্তব্য