নেপালে এখন উদ্ধারকাজের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলে। সেখানে আটকে আছে শত শত মানুষ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে টানেল খুলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সহায়তা করছেন। এ ছাড়া জলবিদ্যুৎ-কর্মীদের কাছে পৌঁছাতে নেপালের উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু করেছেন।
গতকাল নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আপডেটে জানিয়েছে, ‘চারটি ছিদ্র করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এখন সরাসরি টানেলে প্রবেশ করার প্রস্তুতি চলছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো এরপর ড্রিলিং মেশিন, এক্সকাভেটর, হাইড্রোলিক কাটার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ শুরু করেছে।
নেপালের সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেলের ভিতরে ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক এখনো জীবিত ও আটকে থাকতে পারেন। হিমালয়ের নদী উপত্যকার ত্রিশূলী ৩-এ এবং ৩-বি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের তোড় নেমে আসার পর থেকে নিখোঁজ ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ-কর্মীর মধ্যে তারাও সেখানে রয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ৬ বছরের শিশুকে উদ্ধার, নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকা ছয় বছরের এক কন্যাশিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবারের বন্যা ও ধসে ভোতে কোশি নদীর কাদা ও পাথরের ঢলে তলিয়ে যায় রসুয়া জেলার তিমুড়ে গ্রাম।
শুক্রবার সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্যরা। পরে দ্রুত মাটি খুঁড়ে তারা শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনেন। জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ওই শিশুকন্যার নাম মনিষা মগার।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের দুই পাশে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে জীবিত অনেককে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ওয়াকেবহালরা মনে করছেন।
0 মন্তব্য