হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চিমটিবিল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ মিয়া চিমটিবিল এলাকার শফিক মিয়ার (সফিকুল ইসলাম) ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও সোহাগ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান। এ সময় একটি গরু শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে গেলে তা আনতে যান সোহাগ। তখন বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলির শব্দ শুনে পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় তাঁকে গুলিবিদ্ধ ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।
পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক সিরাজুম মুনিরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, শূন্য লাইনের প্রায় এক কিলোমিটার ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোরাকারবারি শনাক্ত করে তারা গুলি চালিয়েছিল। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি গরু চরাতে গিয়েছিলেন এবং বিএসএফ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
0 মন্তব্য