গ্যাস সংকট ও এলপিজির বাড়তি দামের মধ্যেও মুরগির বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী রান্নার গ্যাস উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উদ্যোক্তা মোহিন হোসাইন। নিজের পোলট্রি খামারের বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে শুধু নিজের পরিবারের জ্বালানি চাহিদাই মেটাচ্ছেন না, পাইপলাইনে মাসে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকায় আশপাশের ১২টি পরিবারেও সরবরাহ করছেন রান্নার গ্যাস। তাঁর এই উদ্যোগে একদিকে যেমন মুরগির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান হচ্ছে, অন্যদিকে এলপিজির তুলনায় কম খরচে জ্বালানি পাচ্ছে স্থানীয় পরিবারগুলো।
মুরগির খামারের বর্জ্য বা বিষ্ঠা অ্যানারোবিক বায়োডাইজেস্টারে দিয়ে এই গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত বায়োগ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াটিতে পাওয়া স্লারি জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
মোহিন হোসাইন জানান, শুরুতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে বায়োগ্যাস নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। তিনি ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করেছিলেন। তবে গ্যাস সংকট ও এলপিজির দাম বাড়ার কারণে এখন চাহিদা বেড়েছে।
তিনি বলেন, একটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকার বেশি হলেও তাঁর প্ল্যান্ট থেকে মাসব্যাপী পাইপলাইনে গ্যাস নিতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা।
কয়েক মাস আগে নিজের পোলট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্ল্যান্টটি স্থাপন করেন এই উদ্যোক্তা। বর্তমানে ১২টি পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০টি পরিবারকে এই সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, আগে তাদের পরিবারকে কাঠের চুলায় রান্না করতে হতো। এতে ধোঁয়া ও নানা ধরনের ভোগান্তি ছিল। এখন মাসে ১ হাজার ২০০ টাকায় বায়োগ্যাস পাওয়ায় রান্না সহজ হয়েছে এবং খরচও কমেছে।
মোহিন হোসাইনের মতে, দেশের অন্যান্য পোলট্রি খামারিরাও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করলে মুরগির বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাও কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে টার্মিনাল বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
0 মন্তব্য