সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট (নিরীক্ষা) চলাকালে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালামের (৫০) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অডিট চলাকালে অতিরিক্ত মানসিক চাপে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট (কীটনাশক) সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে সহকর্মীরা দাবি করছেন। এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুস সালাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং নিমগাছী গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যাংকের কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে নিমগাছী শাখায় অডিট কার্যক্রম চলছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিমগাছী শাখার ব্যাংক কর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে বেশ হতাশাগ্রস্ত দেখাচ্ছিল। হতাশার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব।”
এরপরই তিনি বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা স্বীকার করলে দ্রুত সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অডিট টিমকে অবরুদ্ধ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
ম্যানেজারের বিষপানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংক কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ও ব্যাংকের কর্মচারীরা অডিট কমিটির সদস্যদের ব্যাংকের ভেতরে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অডিট কমিটির তিন সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে থানা পুলিশ।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, অডিটের কোনো সিদ্ধান্ত বা অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য এবং গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
0 মন্তব্য