চট্টগ্রাম ওয়াসায় নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুভেচ্ছা জানাতে একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সোমবার (১ জুন) উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ওয়াসার নতুন ভবনে এ ঘটনাকে ঘিরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. জানে আলম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭–এর একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে ওয়াসা ভবনে জড়ো হতে থাকেন। উপস্থিতদের মধ্যে আবু জাফর, মহিউদ্দিন মানিক, মো. মিয়া ও ড্রাইভার শাহজাহানসহ কয়েকজনকে দেখা যায়।
এদিকে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭ অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। অবকাশকালীন ছুটি শেষে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে রায়ের অনুলিপি মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে পৌঁছায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৮৭) তৎকালীন সভাপতি রতন কান্তি দাশ সংগঠনটির নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর আদালত সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
পরবর্তীতে আদালত সংগঠনটির নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭ বাতিলের আদেশ দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৭৯(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে একসঙ্গে তিনটির বেশি ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন দেওয়া যায় না। চট্টগ্রাম ওয়াসায় সংগঠনটি চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ায় তা আইনি সীমা অতিক্রম করেছে বলে আদালত মত দেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৮৭) ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৪ সালে সংগঠনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০০৪ ও ২০০৫ সালেও হাইকোর্ট সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করে পৃথক রুল জারি করেছিলেন।
তালা ভেঙে কক্ষ দখলের অভিযোগ
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওয়াসার নতুন ভবনের একটি কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করেও আলোচনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটির কিছু নেতাকর্মী একটি কক্ষের তালা ভেঙে নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এবং সেখানে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার টানানো হয়।
পরে সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর তারা নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে ওয়াসার কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
0 মন্তব্য