জুলাইয়ের শেষ দিকে কিছুটা উন্নতি হলেও আগস্টের শুরু থেকে ফের অবনতি ঘটেছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বন্যা পরিস্থিতির। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা কৃর্তপক্ষ আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের।
এছাড়া বর্তমানে রাজ্যের ৩৫ জেলার মধ্যে ১৩টি জেলার ৪৬৪টি গ্রামে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ জন মানুষ। বন্যা উপদ্রুত জেলাগুলো হলো শিবাসগড়, গোলাঘাট, নগাঁও, হোজাই, সোনিতপুর, ধেমাজি, দারাং, বিশ্বনাথ, কামরূপ (মেট্রোপলিটন), লখিমপুর, উদলগুড়ি, জোরহাট এবং চরাইদেও।
এসব জেলার মধ্যে সবচেয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে শিবাসগড়। জেলাটিতে বন্যা উপদ্রুত লোকজনের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৭৫০ জন। ক্ষয়ক্ষতির বিচারে শিবাসগড়ের পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছে গোলাঘাট ( আক্রান্ত ৪৮ হাজার ২৮৬ জন), তৃতীয় স্থানে জোরহাট (আক্রান্ত ২৫ হাজার ২৫৯ জন), চতুর্থ স্থানে চরাইদেও (আক্রান্ত ১২ হাাজর ৭৭৯ জন), পঞ্চম স্থানে দারাং (আক্রান্ত ৩ হাজার ৩৬৭ জন) এবং ষষ্ঠ স্থানে ধেমাজি (আক্রান্ত ১ হাজার ২৬৫ জন)।
এছাড়া বন্যায় নষ্ট হয়েছে উপদ্রুত ১৩ জেলার ১০ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৬৪ হেক্টর জমির ফসল। সেই সঙ্গে ভেসে গেছে ৪৭ হাজার ৮০৯টি গবাদি পশু।
এএসডিএমএর তথ্য অনুসারে, বন্যাকবলিত ১৩ জেলার বিভিন্ন গ্রামে মোট ১২৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪৪টি ঘরবাড়ি।
বন্যার্তদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনে উপদ্রুত ১৩ জেলায় মোট ৭৩টি ত্রাণশিবির খুলেছে এএসডিএমএ। বর্তমানে এসব শিবিরে আশ্রিত অবস্থায় আছেন ১০ হাজার ৩২৬ জন।
দুর্গম উপদ্রুত এলাকাগুলোতে লোকজনকে উদ্ধার অভিযানও চলছে। রাজ্য সরকারের উদ্ধারকারী বাহিনী এসডিআরএফ-কে এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন উদ্ধারকারী বাহিনী এনডিআরএফ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। কর্মীদের নেতৃত্বে চলছে এই তৎপরতা।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে আসামের নদনদীগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে বন্যা শুরু হয় আসামের ১৬টি জেলায়। সম্প্রতি ৩টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
সূত্র : গালফ নিউজ
0 মন্তব্য