রোমার মাঠে জোসে মরিনিওর প্রত্যাবর্তনের রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকল এক নাটকীয় লড়াইয়ে। ম্যাচের শেষ আট মিনিটে তিন গোল করে রোমাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে স্তাদিও অলিম্পিকোকে স্তব্ধ করে দেন রিয়ালের ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রোমা। ২০ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তার শট ঠেকাতে পারেননি রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এর আগে মারিও এরমোসোর শটও কোনোমতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দে রুনের গোলের পর ডনিয়েল মালেনের জোরালো শটও রিয়ালের জন্য বিপদ তৈরি করেছিল, তবে গোলরেখা থেকে বল উদ্ধার করেন কোর্তোয়া।
তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে এরমোসোর ভুলের সুযোগ কাজে লাগান কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফাঁকা জায়গা পেয়ে তার নেওয়া শট জালে জড়ালে ১-১ হয় স্কোরলাইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল এমবাপ্পের শততম ম্যাচ। ২৭ বছর বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন। ম্যাচে গোলটি ছিল টুর্নামেন্টে তার ৭২তম, যার মাধ্যমে রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার সেরা পাঁচে জায়গা করে নেন তিনি।
বিরতির আগে মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যাম গোলের সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। অন্যদিকে, রোমার কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার প্রতিশ্রুতি রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো মোরা বল বাড়িয়ে দেন মালেনকে। প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় স্পর্শেই কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। এতে আবারও এগিয়ে যায় রোমা। ছয় মিনিট পর থ্রু বল ধরে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মালেন। শুরুতে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রিয়াল। এমবাপ্পে দুবার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরীক্ষায় ফেললেও তার দ্বিতীয় গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, রোমার মাঠ থেকে হার নিয়েই ফিরতে হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।
কিন্তু ম্যাচের শেষ আট মিনিটে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে হেডে ফিরে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এর মাত্র দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এন্ড্রিক। মুহূর্তেই ৩-৩ হয়ে যায় ম্যাচের স্কোর।
এরপর যোগ করা সময়ের আগে ৯০তম মিনিটে আসে রিয়ালের জয়সূচক গোল। মার্কারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে বল জালে পাঠান রোমার সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। তার গোলে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল, আর শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে দলটি।
ম্যাচের ফল ছাপিয়ে রোমার সমর্থকদের কাছে রাতটি ছিল মরিনিওকে ঘিরেও আবেগের। আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকা এই পর্তুগিজ কোচ দলটিকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন এবং ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন। তার প্রত্যাবর্তনে ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে সম্মান জানান সমর্থকেরা।
সাত বছরেরও বেশি সময় পর নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রোমা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ছয়। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে রোমার সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট।
0 মন্তব্য