কুমিল্লার চান্দিনায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে সানাউল্লাহ মিয়াজী (৬০) নামে এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সানাউল্লাহ শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে কামড় দিয়ে মারাত্মক আহত করে।
অভিযুক্ত সানাউল্লাহ মিয়াজী শালিখা গ্রামে মৃত তাজু মিয়াজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে একটি চা দোকানের ব্যবসা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ও দাদা (পিতামহ) ধনিচা ক্ষেতে কাজ করার সময় শিশুটিকে সানাউল্লাহর চা দোকানের টেবিলে বসিয়ে রাখে। বিকাল অনুমান সাড়ে ৩টায় দোকানে ও আশেপাশে কোনো লোকজন না থাকায় সানাউল্লাহ মিয়াজী শিশুটিকে বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন চালায়। পরে শিশুটি সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার পরিবারকে ঘটনাটি জানায়।
ভুক্তভোগীর মা ও পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি অভিযুক্ত সানাউল্লাহ’র দোকানের সামনে গেলে তাকে বিস্কুট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর দোকানের ভেতর শিশুটিকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করে।
ভুক্তভোগী শিশুর চাচা সফিউল্লাহ’র অভিযোগ- ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত ছানাউল্লাহ শিশুটির বাবার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বরকে জানান।
তারা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। সোমবার সকালে বিচার করে অভিযুক্ত সানাউল্লাহকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তবে পরিবারটি ওই সিদ্ধান্তে রাজি না হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না এমন শর্তে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।
সালিসের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মাতাব্বর মো. মনির হোসেন মুন্সী বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয়, আমরা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ এতে কাউকে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়নি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ‘সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
0 মন্তব্য