দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে শুক্রবার গভীর রাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণের টাইর ও নাবাতিয়েহ অঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা এলাকায় পাঁচটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এর আগে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দুইজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।
ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা চালানো হয়েছে।লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের রিজের কাছে হামলা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ ওই এলাকা হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
নাবাতিয়েহ শহরে মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এনএনএ জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ওই রিজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ওই এলাকায় ‘শত্রুকে পুনরায় সংগঠিত হতে বাধা দিতে’ সেনাবাহিনী কাজ করবে।
শুক্রবার নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েল হামলা আরও জোরদার করে। একই দিনে টাইর এলাকার রমাদিয়েহ গ্রামেও হামলা চালানো হয়। এলাকাটি ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমাদিয়েহে হামলায় একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু, তিন নারী ও ছয়জন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন।
এর আগে এএফপিকে একটি উদ্ধারকারী সংস্থার সূত্র জানিয়েছিল, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া ওই গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা হয়েছে।
গত মার্চ থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর পর লেবানন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের দাবি, ওই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে বৈরুত এখনো ইসরায়েলি হামলার খবর দিয়ে আসছে।
শুক্রবার লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী ইমরান রিজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুদ্ধবিরতির পর নাবাতিয়েহে ফিরে আসা পরিবারগুলো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, মৌলিক সেবার ঘাটতি, চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে।
0 মন্তব্য