মামলার নথি থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এক ডিভোর্সি নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুর থানার সাবেক কনস্টেবল (মুন্সি) মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাংলাদেশ পুলিশ এর রংপুর জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে মিঠাপুকুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পূর্বে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মিঠাপুকুর থানায় পাঠালে মামলার নথিতে থাকা ওই নারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন থানায় কর্মরত মুন্সি মো. শহিদুল ইসলাম, যার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে।
এরপর থেকেই শহিদুল বিভিন্ন সময় ফোনে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকেন। ভুক্তভোগী নারী একা ও ডিভোর্সি হওয়ায় শুরুতে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে বিয়ের শর্ত দিলে শহিদুল তাতে সম্মতি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিয়ের কথা বলে শহিদুল ওই নারীকে গাইবান্ধায় নিয়ে যান এবং একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। সরল বিশ্বাসে ওই নারী তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেন। এরপর মিঠাপুকুর থানায় কর্মরত অবস্থায় থানার ঝাড়ুদার শেখ সাদীর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে শহিদুল মাথা ঘোরা ও বমি বন্ধের ওষুধের কথা বলে তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েক দিনের মধ্যেই তার গর্ভপাত ঘটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শহিদুল আকস্মিকভাবে মোবাইল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগী নারী জানতে পারেন, তাকে মিঠাপুকুর থানা থেকে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আপনারা তো আমাকে ভাইরাল করে দিলেন। এ বিষয়ে ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। পরে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
0 মন্তব্য