বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ব্রোকারেজ হাউস ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের কোনো কর্মপরিকল্পনা বিবেচনা করবে না বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ জমা দেওয়া কর্মপরিকল্পনাকেও আগের পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি এবং অসন্তোষজনক বলে মনে করেছে কমিশন।
সম্প্রতি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান জানিয়েছে বিএসইসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম।
চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের জমা দেওয়া সর্বশেষ কর্মপরিকল্পনা এবং এর আগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছে কমিশন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিকল্পনাকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক ও অসন্তোষজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ওই পরিকল্পনায় বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা ছিল না। এমনকি পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে ডিএসইর কাছেও কোনো অর্থ জমা দেয়নি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ।
গেল ১৪ জুন প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা বিএসইসির কাছে জমা দেয়। তবে কমিশনের পর্যালোচনায় সেই পরিকল্পনাতেও আগের পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি ধরা পড়ে। বিনিয়োগকারীদের পাওনা কীভাবে, কখন এবং কোন উৎস থেকে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি।
বিএসইসির অবস্থান হলো, শুধু কর্মপরিকল্পনা জমা দিলেই তা বিবেচনার সুযোগ নেই। প্রথমে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই অর্থ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের প্রমাণসহ নতুন কর্মপরিকল্পনা জমা দিলে তখন সেটি বিবেচনা করা হবে।
ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। এ বিষয়ে কমিশনের চিঠিতে ডিএসইর ২০২১ সালের ১১ আগস্ট এবং ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর জারি করা দুটি সার্কুলারের উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রেক হোল্ডার কোম্পানির আবেদন সাধারণত ডিএসইর মাধ্যমে কমিশনে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজকে এ-সংক্রান্ত সব ধরনের চিঠিপত্র ডিএসইর মাধ্যমে বিএসইসিতে পাঠাতে হবে।
২০২০ সালের জুনে করোনাভাইরাস মহামারির সময় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন শাখা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শেয়ার এবং সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে থাকা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রায় ২২ হাজার বিনিয়োগকারী সমস্যায় পড়েন। অনেক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবও বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যায়।
পরে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ এবং তাঁর স্ত্রী নিপা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণার মামলা করা হয়।
বিএসইসির তদন্তে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারে তথ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডিএসইর তৎকালীন প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খায়রুল বাশারকে শেয়ারবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আগাম নোটিশ ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শন বা স্পট ইন্সপেকশন চালাচ্ছে বিএসইসি। কমিশনের লক্ষ্য, এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
0 মন্তব্য