আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় বাড়ানো হচ্ছে বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন আরো কয়েক লাখ উপকারভোগী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাত কেন্দ্র করেই সরকার তাদের ‘কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা’র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবে। বর্তমানে ৬১ লাখ নাগরিক বয়স্ক ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। এতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬২ লাখ বয়স্ক নাগরিককে ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ৯০ বছরের কম বয়সি বয়স্ক নাগরিকদের ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। আর ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২.০৫ লাখ বয়স্ক ভাতাধারী প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের কর্মসূচির আওতায়, বর্তমানে একজন নারী মাসে ৬৫০ টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। আগামী বছর এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে উপকারভোগীদের মধ্যে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২৫ হাজার নারী মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
ভাতার পরিমাণ বাড়ার কারণে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের ভাতা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৫৯.৬৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছর যা হচ্ছে ২ হাজার ২৭৭.৮৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩৪.৫০ লাখ প্রতিবন্ধী মাসে ৯০০ টাকা হারে ভাতা পান। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগী ১.৫০ লাখ বাড়িয়ে ৩৬ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের মূল ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তত রাখা হলেও ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সিরা আগামী বছর থেকে ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।
এদিকে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আগামী বছর বাড়ছে না। তবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা হারে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা মাসে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১১০০ টাকা ও উচ্চতর স্তরে ১৩৫০ টাকা পাবেন। অপরদিকে হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে তাদের ভাতার পরিমাণ নতুন অর্থবছরও অপরিবর্তত থাকছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবে। ধাপে ধাপে উপকারভোগীর সংখ্যা ও বাজেট বাড়ানো হবে। চলতি অর্থ বছরসহ পাঁচ বছরে এ কর্মসূচিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা এবং জরিপসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার এখন বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, বাজারে, প্রান্তিক অর্থনীততে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
0 মন্তব্য