ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্দানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরান দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করা হয়। এ ছাড়া ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপের পাশে থাকা আরো একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন হামলার পর ইরান জর্দানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। জর্দানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নোঙর করা অবস্থায় কিংবা বন্দরে থাকা উভয় ক্ষেত্রেই এসব জাহাজ হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
সেন্টকমের দাবি, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজ। তবে মার্কিন বাহিনী সেই হামলা এড়িয়ে গেছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলার শিকার পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এমন একটি ‘বহু বিলিয়ন ডলারের ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ, যা আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তারা তেলবাহী ট্যাংকার হারাবে। সর্বশেষ হামলার অন্যতম লক্ষ্য খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল এই দ্বীপে রয়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে খারগ দ্বীপে এনে রপ্তানি করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও। এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।
গত ৫ সেপ্টেম্বরও যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছিল। এর আগে ইরান একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করেছিল বলে ওয়াশিংটন দাবি করে।
গত এক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে কয়েক মাস পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
0 মন্তব্য