বড় শহরগুলোর ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯টির আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে শিশুরা সহজেই চিপস, মিষ্টি, সসেজ রোল ও কোমল পানীয় কিনতে পারে।
শুধু তাই নয়, হাতখরচের টাকা দিয়ে খাবার বা পানীয় কেনার সময় শিশুরা প্রায় সব সময়ই অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেয়। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনএল টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।
নেদারল্যান্ডসের পুষ্টিবিষয়ক সংস্থা ভোডিংসসেন্ট্রামের লিসবেথ ভেলেমা সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের এমন সহজলভ্যতা উদ্বেগজনক। শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, চিনিযুক্ত ও চর্বিসমৃদ্ধ স্ন্যাকসের তুলনায় স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক সময় তাদের কাছে কম সুস্বাদু মনে হয়।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের কেনা খাবারের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের বিরতিতে খাবার কিনতে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সসেজ রোল, মিষ্টি, চিপস ও কোমল পানীয় সহজেই পাওয়া যায়। ফলে তাদের খাদ্যাভ্যাসে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাব বাড়ছে।
বর্তমানে স্কুলের কাছাকাছি অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়ে কোনো নিয়ম-কানুন নেই, তবে পৌরসভাগুলো এই অবস্থার পরিবর্তন চায়। তারা চায়, অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়ে আরো কঠোর আইন প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়াতে সুপারমার্কেটগুলোকেও আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আমস্টারডাম ইউএমসির এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে।
ওই সময় ১৪টি পৌরসভার একটি জোট কোনো এলাকায় নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জানায়।
গবেষণায় নেদারল্যান্ডসের আলমেরে, আমস্টারডাম, ডেন বশ, লেইডেন, রটারডাম, ইউট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেদা, গ্রোনিনজেন ও টিলবার্গ শহরের খাবারের সহজলভ্যতা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত সব শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাধান্য রয়েছে।
বিদ্যালয়ের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের এমন ব্যাপক উপস্থিতি এবং শিশু-কিশোরদের এসব খাবারের প্রতি ঝোঁক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : এনএল টাইমস
0 মন্তব্য