সিয়াটলে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে ইউরি টিলেমান্সের পেনাল্টি থেকেই আসে জয়সূচক গোল, যা দলকে নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট।
বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন যখন প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, তখনই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বাজিমাত করল বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা।
ম্যাচের ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন ইউরি টিলেমান্স। এর আগে সেনেগালের লামিন কামারা গোলমুখে ছুটে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে টিলেমান্সকে ফাউল করেন। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনার পর বেলজিয়ামকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান টিলেমান্স এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখেন বেলজিয়ামের হয়ে।
ম্যাচের ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন ইউরি টিলেমান্স। এর আগে সেনেগালের লামিন কামারা গোলমুখে ছুটে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে টিলেমান্সকে ফাউল করেন। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনার পর বেলজিয়ামকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান টিলেমান্স এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখেন বেলজিয়ামের হয়ে।
হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ম্যাচের শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল। তখন মনে হচ্ছিল, সহজেই তারা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ চার মিনিটে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্সের দুই গোলে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম, ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে ১২৫তম মিনিটে টিলেমান্সের পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ হবে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। সিয়াটলে আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে সেই লড়াই।
সেনেগালের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক পরাজয়। পুরো ৯০ মিনিটের বেশিরভাগ সময় আধিপত্য দেখানোর পাশাপাশি তারা দুইবার পোস্টে বল মেরেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পর চতুর্থ আফ্রিকান দল হিসেবে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিল সেনেগাল। এতটা এগিয়ে থেকেও কীভাবে ম্যাচ হাতছাড়া হলো, সেই আক্ষেপই হয়তো দীর্ঘদিন তাড়া করবে তাদের।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল। বাঁ দিক থেকে ইসমাইল জ্যাকবসের ক্রস থিবো কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়া ইসমাইলা সারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ২৫তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় আফ্রিকান দলটি। সাদিও মানের ক্রসে সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলেও, সেই আক্রমণ থেকেই সেনেগাল লিড নিতে সক্ষম হয়।
এবার ফিরতি বলটি ঠিকই হাবিব দিয়ারার সামনে এসে পড়ে, আর সাত গজ দূর থেকে সহজ শটে জালে পাঠিয়ে সেনেগালকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কুইপারের দুর্দান্ত এক শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক মোরি দিয়াও। সেই সেভের কারণে বিরতিতে ১-০ গোলে পিছিয়েই মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিষ্প্রভ শার্ল দে কেটেলারের বদলে রোমেলু লুকাকুকে নামায় বেলজিয়াম। কিন্তু পরিবর্তনের পরপরই আরও বড় ধাক্কা খায় তারা।
৫১তম মিনিটে মুসা নিয়াখাতের অসাধারণ লং পাস বুকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন ইসমাইলা সার। এরপর দুই ডিফেন্ডারকে সামলে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে সেনেগালের ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খেয়েছিল বেলজিয়াম। তবে শেষ পাঁচ মিনিটে যেন আচমকাই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরে ইউরোপের দলটি।
প্রথমে থমাস মুনিয়েরের নিচু ক্রস থেকে নিকট পোস্টে বল জালে পাঠান রোমেলু লুকাকু। এরপর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের বক্সে ভাসানো বলে হেড করে সমতা ফেরান ইউরি টিলেমান্স।
ম্যাচের শুরুতে এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও, সমতাসূচক গোলের পর দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। হাসি আর আলিঙ্গনে উদযাপন করেন তারা। পরে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করেও দলের নায়ক হয়ে ওঠেন টিলেমান্স।
0 মন্তব্য