পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুতি করায় রাজধানীর রামপুরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে রামপুরা এলাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
ফলে তীব্র গরমের মধ্যে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
জানা গেছে, বিটিভি সেন্টারের সামনে ‘টেক্সাস ড্রেসেস লিমিটেড’ নামক একটি পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মালিবাগ-রামপুরা-বাড্ডা রুটের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়াই কারখানা কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করেছে। চাকরি হারিয়ে জীবিকা নির্বাহের সংকটে পড়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বিটিভি ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ভবন ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সময় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সেগুলো হলো—
১. ছাঁটাই করা ১৪৭ জন শ্রমিককে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
২. আন্দোলন দমাতে পুলিশ প্রশাসন বা বহিরাগতদের দিয়ে শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের মামলা, হামলা বা হয়রানি করা যাবে না।
৩. কারখানার পূর্ববর্তী স্বাভাবিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যেভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল, ঠিক সেভাবেই কারখানা পরিচালনা করতে হবে।
৪. কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রত্যেক শ্রমিকের চাকরির আইনি ও স্থায়ী নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১৪৭ জন শ্রমিকের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দুপুরে রামপুরায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা শ্রম অধিদপ্তরে যাচ্ছে, সেখানে আশা করি বিষয়টি সমাধান হবে। বর্তমানে রামপুরা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
0 মন্তব্য