গ্যাসসংকটের কারণে দেশের নিট পোশাক শিল্পের উৎপাদন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে অর্ডার অন্য দেশে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কী করব বুঝতে পারছি না।’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিকেএমইএ ভবনে চলমান গ্যাসসংকট ও শিল্প খাতে এর প্রভাব শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর সভাপতি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গত ২০ জুলাই থেকে গ্যাসসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
সরকার ১০ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ওই সময়ের পর সংকট আরো তীব্র হয়েছে। মাঝখানে দুই দিন কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও পরে আবার সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ সময়মতো শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের অর্ডার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, গ্যাসসংকটের সরাসরি ক্ষতির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভবিষ্যতের রপ্তানি আদেশ নিয়ে। কারখানা উৎপাদন করতে না পারলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি দাবি করেন, গ্যাসসংকটের কারণে অন্তত ৩০০ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ থাকার কথা আমরা শুনেছি। অনেক কারখানা আংশিকভাবে চলছে।
ফলে শুধু উৎপাদন নয়, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়েছে। সংকট মোকাবেলায় সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন বিকেএমইএর সভাপতি। এর মধ্যে রয়েছে জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া।
এ ছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য খাতে সিএনজির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
0 মন্তব্য