ফুটবল মাঠে মারামারির ঘটনা নতুন নয়। তবে এক ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সত্যিই বিরল। ব্রাজিলের মিনাস গেরাইসে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের এক ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মিলিয়ে মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। মারামারি, ধাক্কাধাক্কি ও একে অপরকে ঘুষি-লাথি মারার ঘটনায় ম্যাচটি রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
গত রোববার মিনাস গেরাইসের রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় উবেরলান্দিয়া ও মামোরে। ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় মামোরে। তবে খেলার ফলের চেয়ে দুই দলের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনাই বেশি আলোচনায় এসেছে।
ম্যাচ রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দলের মোট ৪০ জন খেলোয়াড় ও ৮ জন স্টাফকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এর আগে আরও তিন খেলোয়াড় এবং উবেরলান্দিয়ার দুই ক্লাব কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৪৩ জন খেলোয়াড়, ৮ জন কোচিং স্টাফ ও ২ জন ক্লাব কর্মকর্তা বহিষ্কৃত হন।
যেভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর সাত মিনিট পর উবেরলান্দিয়ার খেলোয়াড় লুইকে বিস্পো দো সান্তোসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সান্তোসকে লাল কার্ড দেখানোর পর উবেরলান্দিয়ার তিনজন স্টাফ মাঠে ঢুকে রেফারিদের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান।
ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়, ওই স্টাফদের একজন রেফারিদের হুমকি দিয়ে বলেন, খেলা শেষে তারা নিরাপদে মাঠ ছাড়তে পারবেন না। আরেকজন রেফারিকে হত্যার হুমকিও দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উবেরলান্দিয়ার কর্মকর্তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে ম্যাচটি প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখা হয়।
যোগ করা সময়ে ভয়াবহ হাতাহাতি
খেলা পুনরায় শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট পর ফাউলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মামোরের এক খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। এর এক মিনিট পর প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পেটে ঘুষি মারার দায়ে উবেরলান্দিয়ার আরেক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গোল উদযাপনের সময় মামোরের এক খেলোয়াড় উবেরলান্দিয়ার বেঞ্চের দিকে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
রেফারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উবেরলান্দিয়ার এক কোচিং স্টাফ মাঠে ঢুকে এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলে দুই দলের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় খেলোয়াড়েরা একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারেন।
এমনকি উবেরলান্দিয়ার ছয়জন বলবয়ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তারা মামোরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের লাথি মারেন এবং বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে মারেন বলে ম্যাচ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাঙচুরের অভিযোগ, গিনেস রেকর্ডের দাবি
রেফারি মোদেস্তে জানান, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে হট্টগোলের মধ্যে শারীরিকভাবে সবার হাতে লাল কার্ড দেখানো সম্ভব হয়নি। পরে ম্যাচ রিপোর্টে উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জনকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মামোরের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পর এক ক্লাব স্টাফ তাদের পানি রাখার কুলার, ম্যাসাজের ব্যাগসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম স্টেডিয়ামের নর্দমায় ফেলে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মামোরের খেলোয়াড়েরা নিজেদের ড্রেসিংরুম ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
রেফারির বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকির অভিযোগে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব আতলেতিকো ক্লাইপোলে ও ভিক্টোরিয়া আরেভাসের ম্যাচে এ ঘটনা ঘটেছিল। ব্রাজিলের এই ম্যাচে ৫৩ জনকে বহিষ্কারের ঘটনায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি উঠেছে।
0 মন্তব্য