ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কে ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এমপি হান্নানের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও থামেনি অপরাধ। হুঁশিয়ারির পরের রাতেই একই এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় দুজন আহত হন। সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সকালেও ডাকাতির শিকার হয়েছেন দুই মাছ ব্যবসায়ী। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কের মধ্যবর্তী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত ৬ অক্টোবর রিকশাযাত্রী কয়েকজন যুবকের সর্বস্ব লুটের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় এক যুবক ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হান্নান উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে এমপির হুঁশিয়ারির পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। হুঁশিয়ারির পরের রাতেই একই এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সকালেও ওই সড়কে দুই মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রিকশাযাত্রী যুবকদের সর্বস্ব লুট
গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক রিকশায় করে নাসিরনগর থেকে লক্ষ্মীপুর যাচ্ছিলেন। পথে আনন্দপুর ও তিলপাড়ার মধ্যবর্তী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একদল ডাকাত তাদের পথরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা যুবকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এক যুবক মোবাইল ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওই যুবক অভিযোগ করেন, যাওয়ার পথে উপজেলা প্রশাসনের সদস্যদের অপরাধপ্রবণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিলপাড়ার একটি টং দোকানে চা পান করতে দেখেছেন তিনি। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য হান্নানের কাছে সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। নির্বাচনের আগে এ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমপির হুঁশিয়ারি, প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ
ভিডিও বার্তাটি দেখার পর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এমপি হান্নান নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও সন্ধ্যা ৭টায় এমন ঘটনা ঘটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা যাচাই করতে গোয়েন্দা নিয়োগের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন।
ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গেও কথা বলার বিষয়টি উঠে আসে।
হুঁশিয়ারির পরের রাতেই ডাকাতি, আহত দুজন
এমপির হুঁশিয়ারির পরের রাতেই ফজরের আজানের সময় একই ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আবার ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাপরতলা ইউনিয়নের এক দম্পতি ঢাকায় চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নাসিরনগরে ফিরছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও তিনজন যাত্রী ছিলেন। পথে আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কের ওই এলাকায় একদল ডাকাত তাঁদের পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় একজনকে বড় দা দিয়ে কুপিয়ে এবং আরেকজনকে বল্লম দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ ওই নারীকে গহনার জন্য নির্যাতন ও হেনস্তা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
২০ অক্টোবর সকালে ফের ডাকাতি, লুট ১৪ হাজার টাকা
সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে একই সড়কে ডাকাতির শিকার হন দুই মাছ ব্যবসায়ী। তাঁরা পূর্বভাগ বাজার থেকে মাছ কেনার উদ্দেশ্যে নাসিরনগর মাছের আড়তে যাচ্ছিলেন।
পথে তিলপাড়া সড়কে ডাকাতরা তাঁদের আটক করে নগদ ১৪ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁদের আহত করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুধু আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কেই নয়, নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাড়িঘর ও দোকানপাটেও চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তাঁরা সড়কটিতে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
0 মন্তব্য