কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। এখনো নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তারা হলেন—শর্ণশিষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, দেবাশিস দত্ত ও মো. আকরাম আলী। নিহত অপর বাংলাদেশি আহমেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারে।
এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শর্ণশিষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়া এলাকায়। একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন আফসানা শিম্মিন ও দেবাশিস দত্ত। মো. আকরাম আলীর ঠিকানা কুষ্টিয়ার থানাপাড়া এলাকায়। আর আহমেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায়।
ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার পিলমউ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সন্দীপ পাসওয়ান।
এদিকে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী—পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তাপস রায় বলেন, বেআইনি কার্যকলাপ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অমান্যের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
তিনি বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক বা বিপজ্জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলব।”
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর অনুমতি, লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। নিয়ম অমান্য করে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
কলকাতা পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাপস রায় বলেন, কারও ভুল বা গাফিলতি থাকলে তা চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। যার বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ অভিযানে প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও তিনজনের পরিচয় শনাক্তে প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
0 মন্তব্য