ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা না আসায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এড়িয়ে চলছেন অধিকাংশ জাহাজ মালিক। ফলে বুধবার হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরও কমেছে।
কেপলার এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। আর গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ১১টির তুলনায়ও এ সংখ্যা কম।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর মধ্যে একটি খালি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ও দুটি ট্যাংকার ছিল। ভিএলসিসিটি ওমানের পাশ দিয়ে প্রণালিটি অতিক্রম করে। অন্য দুটি ট্যাংকারের একটি ছিল মিডিয়াম রেঞ্জের এবং অন্যটি ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণির।
অন্যদিকে, দুটি মিডিয়াম রেঞ্জের জ্বালানি ট্যাংকার ও একটি পোস্ট-পানাম্যাক্স জাহাজ হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, নৌযান চলাচলের জন্য প্রণালিটি এখনো বন্ধ রয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে নৌপথটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীনে তেল পরিবহনও কমে গেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার ভর্টেক্সা (Vortexa) ও এক জাহাজ ব্রোকারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক বহন করত এমন দুটি চীনা শিপিং জায়ান্ট জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে তাদের ট্যাংকার হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে পাঠাচ্ছে না।
এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও পরিস্থিতি নজরে রয়েছে। ২০ জুলাই ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পরও গত সপ্তাহান্তে কেপলারের হিসাবে ৩০টি পণ্যবাহী জাহাজ ওই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১৯টি।
তবে ওই সময়ে সৌদি আরবের কোনো তেলবাহী চালান শনাক্ত করা যায়নি।
সূত্র: আরব নিউজ
0 মন্তব্য