ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত নেয় আবুধাবি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক ট্রানজেকশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে আমিরাতের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কতাটি প্রত্যাহার করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এ সময় দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর কিছু সময় হামলা বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডনকের একাধিক তেল ট্যাংকারও হামলার শিকার হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর আমিরাত অভিযোগ করে, ইরান পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রসীমায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আঞ্চলিক সীমার বাইরে এবং অন্যটি আমিরাতের জলসীমার ভেতরে সাগরে পড়ে। হামলাগুলো আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলেও দাবি করে তারা।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি বলেন, ইরান কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি। তার দাবি, আমিরাতের এমন অভিযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বন্দরগুলো থেকে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার পরিস্থিতি আমিরাতের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
0 মন্তব্য